ভেনেজুয়েলায় কেন সামরিক অভিযান চালালো যুক্তরাষ্ট্র?

প্রকাশঃ জানুয়ারি ৩, ২০২৬ সময়ঃ ৯:২৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:০৩ অপরাহ্ণ

শনিবার ভোরে হঠাৎ করেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস। ঘুম ভাঙে একের পর এক বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর আকাশ ছুঁয়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের গর্জনে। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে এক বিস্ময়কর ঘোষণা—ভেনেজুয়েলায় ‘বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান’ চালানোর কথা স্বীকার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প জানান, অভিযানের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এই ঘোষণাই মুহূর্তে বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা: অভিবাসন, মাদক ও নিরাপত্তা

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের পেছনে তিনটি মূল কারণ—অবৈধ অভিবাসন, আন্তর্জাতিক মাদক পাচার এবং জাতীয় নিরাপত্তা। ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসী চাপ বাড়িয়েছে। তার অভিযোগ, মাদুরো সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধী ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করেছে—যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

মাদকের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। তিনি দেশটির দুটি অপরাধী নেটওয়ার্ককে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং সরাসরি মাদুরোর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন।

কারাকাসের পাল্টা দাবি: সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র

ভেনেজুয়েলা সরকার এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। কারাকাসের দাবি, ‘মাদক ও নিরাপত্তা’ আসলে অজুহাত—আসল লক্ষ্য দেশটির বিপুল তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা। মাদুরো বলেন, হামলার কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে যৌথভাবে মাদক ও অভিবাসন সমস্যা মোকাবিলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

হামলার দৃশ্য ও পরিস্থিতি

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, কারাকাসের সামরিক স্থাপনার আশপাশে বিস্ফোরণ ঘটে, আকাশে দেখা যায় যুদ্ধবিমান ও গোলার আলোর রেখা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যাচাইকৃত ভিডিওতে ধোঁয়া ও ট্রেসার গুলির দৃশ্য ধরা পড়ে। ভেনেজুয়েলা সরকার বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করে এবং সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানায়।

কয়েক মাসের উত্তেজনার চূড়ান্ত পরিণতি

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা হঠাৎ নয়। গত কয়েক মাস ধরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও আকাশ শক্তির উপস্থিতি বাড়ানো হয়। তেলবাহী জাহাজ জব্দ, নৌ অভিযানে প্রাণহানি এবং মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সামরিক তৎপরতা ধীরে ধীরে এই সংঘাতকে অনিবার্য করে তোলে।

এখন প্রশ্ন একটাই—এই অভিযানে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, আর লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে কতটা গভীর প্রভাব ফেলবে?

প্রdতি /এডি /শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G